• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

বঙ্গবন্ধুর আর এক খুনি মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার

 বঙ্গবন্ধুর আর এক খুনি মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরাসরি গুলি করেছিল এমন আর এক গ্রেপ্তার নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সূত্রের মাধ্যমে জানানো হয়, খুনি মোসলেহ উদ্দিনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য সূত্র বলছে তিনি পলাতক হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর বুকে সরাসরি সাবমেশিনগানের গুলি করেছিল এই মোসলেহ উদ্দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক রহমান এবং মেজর বজলুল হুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনার ফার্স্ট আর্মাড ডিভিশনের যে ঘাতক বাহিনী রাষ্ট্রপতি মুজিব এবং তাঁর পরিবারকে নৃশংস ভাবে খুন করেছিল সেই দলের সবচেয়ে নিচু র‍্যাঙ্কের সদস্য এই মোসলেহ। সে সেদিন মুজিবের স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসার খুনেও সরাসরি যুক্ত ছিল।

মোসলেহর বিরুদ্ধে সেই বছরের নভেম্বরে ঢাকা জেলে বন্দী আওয়ামী লিগের চার শীর্ষস্থানীয় নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ জরুল ইসলাম, মনসুর আলি এবং এইচ এম কামরুজ্জমানকে গুলি করে, বেয়োনেট-খুঁচিয়ে খুনেরও অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের একটি বাজার থেকে মোস্ট ওয়ান্টেড মোসলেহ উদ্দিনকে ধরেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ডা. দত্ত ছদ্মনাম নিয়ে দীর্ঘ সময় এই এলাকায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করত ওই ব্যক্তি। তাকে সীমান্ত পার করিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে এ সূত্রের তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফাঁসির আগে বঙ্গবন্ধুর অপর খুনি মাজেদ জেরায় জানায় তার কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কনট্য়াক্ট। সেই সূত্র ধরেই বঙ্গবন্ধুর অপর খুনি তৎকালীন সেনাকর্মী মোসলেহউদ্দিনের গোপন ঠিকানার সন্ধান পায় বাংলাদেশ সরকার। এরপর দ্রুত প্রতিবেশী দেশটির সরকার ও সেই অঙ্গরাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়।

মোসলেহ উদ্দিন নিজের নাম পাল্টে ডা. দত্ত নাম নিয়ে দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গে ছিল বলেই সেই সূত্রে জানা যায়। তার আনাগোনা ছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঠাকুরনগরে। তবে এই বিষয়ে এখনো ভারত ও বাংলাদেশ সরকার কিছুই বলেনি।

১৯৯০ এর দশকে প্রথমবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তার পরেই আত্মগোপনে চলে যায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। মোসলেহ উদ্দিন থাইল্যান্ড হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। এরপর জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা ও এই সময়

headadmin