• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের করোনা সুরক্ষা প্রয়োজন

 হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের করোনা সুরক্ষা প্রয়োজন

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার।হাওর অঞ্চল

হাওর অঞ্চলে ধান পেকেছে। করোনা সঙ্কটের এই দুঃসময়ে হাওরের এই ধান হতে পারে দেশের আগামী দিনের ক্ষুধা নিবারনের সম্ভাব্য খাদ্য সমাধান। এই ধানকে এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বদিয়ে গোলায় তুলতে হবে।

দেশের কিছু বিশেষ এলাকার কৃষি শ্রমিকেরা এখন হাওরগুলোতে ধান কাটতে যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশ এদের হাওরে পৌঁছাতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই উদ্যোগে অনেকেই আশার আলো দেখছেন, কারো কারো মনে অজানা আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। এই কৃষি শ্রমিকেরা ধান কেটে মজুরির সাথে করোনা ভাইরাসে সম্ভাব্য মুত্যু পরোয়ানা নিয়েই যে বাড়ি ফিরবেন না সে নিশ্চয়তা কে দেবে?

এদের মাধ্যমেই আবারো হাজার হাজার মানুষ করোন ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন সে আশঙ্কাও থেকে যায়। ধান কাটার কাজটি শুধু অত্যাবশ্যক নয়, অপরিহার্যও বটে। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে করোনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব এবং সরকার ও প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখো মুখি হতে হবে না।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ধান কাটতে যাওয়ার আগেই কৃষি শ্রমিককে পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ নেই নিশ্চিত করেই হাওর অঞ্চলগুলোতে পাঠানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবা যেতে পারে। যারা ধান কাটতে যাবেন তাদের পিসিআর নেগেটিভ হলেই সার্টিফিকেট দিয়ে শুধুমাত্র তাদের জন্য নির্ধারিত গাড়িতে করে হাওর অঞ্চলে পাঠানো যেতে পারে। স্থানীয় মালিক ও শ্রমিকদের সাথে একই অঞ্চলে তাদের লক-ডাউন করে ধান কাটার ব্যবস্থা নিলে সবাই নিরাপদ হবেন এবং প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় হবে।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, এই কৃষি শ্রমিকেরা যে অঞ্চলে ধান কাটতে যাবেন সেখানে লকডাউনকে সফল করতে প্রশাসনের সহায়তায় রিলিফের মাধ্যমে শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নিলে এবং তারা কর্ম ও অবস্থানকালীন আলাদা-আলাদা থাকার কৌশল মেনে চললে বাইরে থেকে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসবে ও সকলেই সংক্রমনের ঝুঁকি মুক্ত থাকবেন।

অন্যদিকে এদের সংক্রমণ অবস্থা জানা না থাকলে ও কর্মকালীন সংঘবদ্ধ থাকার কারণে এদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়লে সকলের মনোবল ভেঙ্গে গেলে তা’ শুধু ধান কাটাতেই বিঘ্ন ঘটাবে তা’ নয়, সামগ্রিক বিষয়টি ব্যবস্থাপনার জন্য বিব্রতকর হতে পারে।

এ সময়ে শ্রমিকদের পরিবারের জন্য রেশনের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হলে শ্রমিকদের পরিবারও নিশ্চিন্তে থাকবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা দেশ ও নাগরিকদের স্বার্থরক্ষার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। ফলে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে সম্ভাব্য আক্রান্তদের পরীক্ষা করার মত এদের পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম মনে করেন।

headadmin